লাইলাতুল কদরে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমকে লাউহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করেন। এ রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও আল্লাহর কাছে উত্তম। এ রাতে অসংখ্য ফেরেশতা যমিনে নেমে এসে পৃথিবী বাসীর সাথে ইবাদতে শামিল হয়। এটা শান্তি বর্ষণের রাত। উপরোক্ত কথাগুলো মহান আল্লাহ সুরা কদরে আলোচনা করেছেন।
সুরা দুখানের শুরুর দিকে মহান আল্লাহ লাইলাতুল কদরকে “লাইলাতুন মুবারাকাতুন“ বলেছেন। সুবহানাল্লাহ! চলুন আমরা মহান রবের কালাম থেকে জানি-
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَكَۃٍ اِنَّا كُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ
নিশ্চয় আমি এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুন মুবারাকাতে অর্থাৎ এক বরকতময় রাতে। আর আমিই সতর্ককারী। – সুরা দুখান ৩
আলোচিত আয়াতের পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
فِیۡہَا یُفۡرَقُ کُلُّ اَمۡرٍ حَکِیۡمٍ
এ রাতেই প্রতিটি প্রজ্ঞাজনোচিত বিষয় স্থির করা হয়। বর্ণিত আয়াতের তাফসিরে ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
وقوله : فِيهَا يُفْرَقُ كُل أمر حكيم أى فى ليلة القدر يفصل من اللوح المحفوظ إلى الكتبة أمر السنة، وما يكون فيها من الآجال والأرزاق، وما يكون فيها إلى آخرها وهكذا روى عن ابن عمر، وأبي مالك، ومجاهد والضحاك وغير واحد من السلف.
অর্থাৎ লাইলাতুল কদরে লাউহে মাহফুয থেকে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে স্থিরীকৃত হয়। সারা বছরের রিযক, হায়াত ও অন্যান্য বিষয়সমূহ কিভাবে আনজাম দেওয়া হবে, আল্লাহ্ তাআলা তা স্থির করে সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাগণের কাছে সোপর্দ করেন। কুরআন অবতরণও সর্বাধিক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ছিল। তাই এর জন্য এ রাত্রিকেই বেছে নেওয়া হয়।
এ রাতের ইবাদতের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়ার বিষয়টি সাহিহ হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
আর যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানসহ নেকীর আশায় ইবাদত করে,তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। -সাহিহ বুখারি ১৯০১
এই মহান রজনী অনুসন্ধানের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, নিজে রাত জাগতেন, পরিজনদেরকেও রাত জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন ও কোমরে লুঙ্গি শক্তভাবে বেঁধে নিতেন। হাদিসে আছে-
كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ الأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ أَحْيَا اللَّيْلَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَجَدَّ وَشَدَّ المِئزَرَ
যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজে জাগতেন, নিজ পরিজনদেরকেও জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং কোমরে শক্তভাবে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন অর্থাৎ সর্বশক্তি দিয়ে ইবাদতে রত থাকতেন। – বুখারী ২০২৪
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ভাগ্যে লাইলাতুল কদর নসিব করুন। আমীন।