যিনদিকের পরিচয়
মুহাদ্দিসুল আসর ইমাম আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি রাহি. বলেন,
فَإِنَّ الزِّنْدِيقَ يُمَوِّهُ كُفْرَهُ وَيُرَوِّجُ عَقِيدَتَهُ الْفَاسِدَةَ وَيُخْرِجُهَا فِي الصُّورَةِ الصَّحِيحَةِ، وَهَذَا مَعْنَى إبْطَان الْكُفْرِ
যিনদিক এমন ব্যক্তিকে বলা হয় যে, তার কুফরকে অন্তরে লুকিয়ে রাখে এবং তার পথভ্রষ্ট আকিদাকে সুন্দর আকৃতিতে সমাজে প্রচার করে। এটাই হলো তার কুফর গোপন করার অর্থ। – ইকফারুল মুলহিদিন ১/১৩
আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ গ্রন্থে এসেছে,
الزَّنْدَقَةُ عِنْدَ جُمْهُورِ الْفُقَهَاءِ إِظْهَارُ الإِْسْلاَمِ وَإِبْطَانُ الْكُفْرِ، فَالزِّنْدِيقُ هُوَ مَنْ يُظْهِرُ الإِْسْلاَمَ وَيُبْطِنُ الْكُفْرَ. قَال الدُّسُوقِيُّ: وَهُوَ الْمُسَمَّى فِي الصَّدْرِ الأَوَّل مُنَافِقًا، وَيُسَمِّيهِ الْفُقَهَاءُ زِنْدِيقًا
যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে বাহ্যত মুসলমান বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু অন্তরে কুফরি আকিদা-বিশ্বাস লালন করে এমন ব্যক্তিকে বলা হয় যিনদিক। আল্লামা দুসুকি রাহি. বলেন প্রথম শতাব্দীতে যাদেরকে মুনাফিক বলা হতো, ফকিহগণ তাদেরকেই যিনদিক বলেন। – আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ ২৪/৪৮
যিনদিক কুফরের অন্যান্য প্রকার থেকে আলাদা একটা বিষয়। এমনকি তার জঘন্যতা মুরতাদ থেকেও কঠিন। কারণ, মুরতাদ তাকে বলা হয়, যে ইসলাম ত্যাগ করে। আর যিনদিক তাকে বলা হয়, যে ইসলামের নাম ধারণ করে নিজের কুফরি আকিদা সমাজে প্রকাশ ও প্রচার করে। ইসলামের জন্য মুরতাদের চাইতে যিনদিক অধিক ক্ষতিকর। কারণ, যিনদিকের দ্বারা অন্যরা প্রতারিত হয়। তারা কুফরকে ইসলাম ভাবতে শুরু করে। অপরদিকে মুরতাদ ইসলাম ত্যাগ করার কারণে তার ব্যাপারে অন্যরা সাধারণত সজাগ ও সতর্ক থাকে। এ কারণে মুরতাদের চাইতেও যিনদিকের শাস্তি কঠিন রাখা হয়েছে।
যিনদিক নামের অপরাধীর শাস্তি
যিনদিকও মুরতাদের মতো ওয়াজিবুল কতল বা হত্যাযোগ্য অপরাধী। তবে যিনদিকের বিষয়টি মুরতাদের তুলনায় আরও গুরুতর। যিনদিক তাওবা করলে তার তাওবা কবুল করা হবে কি না—এ নিয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম শাফেয়ি রহ. যিনদিকের তাওবা গ্রহণের পক্ষে রায় দিলেও ইমাম মালিক রহ.-এর মতে তার তাওবার কোনও মূল্য নেই। সর্বাবস্থায় তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে। হানাফি ওলামায়ে কেরামের মুফতা বিহি কাওল বা স্বীকৃত অভিমত হলো, যিনদিক গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে নিজ থেকে তাওবা করে ফেললে তার তাওবা গৃহীত হবে এবং দণ্ড ক্ষমা করা হবে। কিন্তু যদি তাকে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে আর তার তাওবা গৃহীত হবে না এবং তার দণ্ডও ক্ষমা করা হবে না।
الزِّنْدِيقُ إذَا أُخِذَ قَبْلَ التَّوْبَةِ يُقْتَلُ وَلَا تُؤْخَذُ مِنْهُ الْجِزْيَةُ [تَنْبِيهٌ]. قَالَ فِي الْفَتْحِ قَالُوا لَوْ جَاءَ زِنْدِيقٌ قَبْلَ أَنْ يُؤْخَذَ فَأَخْبَرَ بِأَنَّهُ زِنْدِيقٌ وَتَابَ تُقْبَلُ تَوْبَتُهُ، فَإِنْ أُخِذَ ثُمَّ تَابَ لَا تُقْبَلُ تَوْبَتُهُ وَيُقْتَلُ لِأَنَّهُمْ بَاطِنِيَّةٌ يَعْتَقِدُونَ فِي الْبَاطِنِ خِلَافَ ذَلِكَ فَيُقْتَلُ وَلَا تُؤْخَذُ مِنْهُ الْجِزْيَةُ. اهـ. وَسَيَأْتِي فِي بَابِ الْمُرْتَدِّ أَنَّ هَذَا التَّفْصِيلَ هُوَ الْمُفْتَى بِهِ
-হাশিয়াতু ইবনিল আবিদিন, বাবুন ফিল জিযয়াতি