প্রবন্ধ

দাড়ি সম্পর্কিত ইসলামী ‍শারীআর বিধান

প্রকাশকাল: 13/05/2025

দাড়ি সম্পর্কিত ইসলামী ‍শারীআর বিধান

দাড়ি রাখা দ্বীন ইসলামের শিআর বা পরিচয় বহনকারী বিষয়। দাড়ি লম্বা করা ও মোচ খাটো করা নেককারদের নিদর্শন, মহান রবের প্রেরিত সকল নবী রাসুল আলাইহিমুস সালামের ফিতরাত ও অনুকরণীয় স্বভাব। দাড়ি পৌরষত্বের চিহ্ন বহনকারী এবং নারী থেকে পুরুষকে পার্থক্য নির্ণয়কারী। দাড়ি রাখার কারণে যেমন দুনিয়াবী উপকার রয়েছে তেমনি এটি রেখে সুন্নাত পালনের মাধ্যমে আথেরাত লাভ করা যায়।

দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয। দাড়ি এক মুষ্টির কম রাখা বা একেবারে মুণ্ডিয়ে ফেলা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম এবং কবীরা গুনাহ। কেউ কেউ মনে করেন দাড়ি রাখা সুন্নত, তদের এই ধারণা সঠিক নয়। দাড়ি রাখা নবীদের রীতি অর্থে সুন্নত বলা যেতে পারে। কিন্তু দাড়ি রাখা অন্যান্য সাধারণ সুন্নতের মতো মামুলি কোনো সুন্নত নয় যা করলে ভালো, না করলেও গুনাহ নেই। বরং সাহাবা, তাবিয়ী, তাবে-তাবিয়ী, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, চার মাযহাবের সকল ইমামগণের নিকট দাড়ি রাখা ওয়াজিব।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, إنه أمر بإحفاء الشوارب وإعفاء اللحية আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোঁচ কাটার ও দাড়ি লম্বা করার আদেশ দিয়েছেন। – সাহিহ মুসলিম: ২৫৯

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, جزوا الشوارب وارخوا ا للحى، خالفوا المجوس মোচ কাট ও দাড়ি ঝুলিয়ে দাও, অগ্নিপূজারীদের বিরোধিতা কর। – সাহিহ মুসলিম: ২৬০

মোচ কাটা এবং দাড়ি রাখাই হচ্ছে পুরুষের স্বাভাবিক অবস্থা আর তা মুন্ডিয়ে ফেলা হচ্ছে পুরুষের স্বাভাবিক অবস্থার একটি বিকৃতি। বর্তমান সময়ে অহরহ পুরুষের শ্মশ্রুমণ্ডিত স্বাভাবিক রূপকে অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টি দাড়িকে শেভ করে বিকৃত সাধন করা হয়। অভিশপ্ত শয়তান মহান আল্লাহকে বলেছিল, ’আমি মানুষকে অবশ্য অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে।’ মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ یَّتَّخِذِ الشَّیۡطٰنَ وَلِیًّا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ فَقَدۡ خَسِرَ خُسۡرَانًا مُّبِیۡنًا অর্থাৎ, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে কেউ শয়ত্বানকে (আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃতির মাধ্যমে) অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, সে সুস্পষ্টত ক্ষতিগ্রস্ত। – সুরা নিসা: ১১৯

Scroll to Top