দাড়ি ইসলামী শারীয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। দাড়ি লম্বা করা সকল পুরুষের ওপর ওয়াজিব। মুণ্ডানো বা এক মুষ্টির কমে ছাঁটাই করা কাফের, মুশরিক ও অগ্নিপূজারীদের রীতি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন, তাই দাড়ি লম্বা করা সকল পুরুষের ওপর ওয়াজিব। ইবনে উমর রা. নিজ দাড়ি ধরে এক মুষ্ঠির বর্ধিতাংশ কেটে ফেলতেন, তাই এক মুষ্টির বর্ধিতাংশ ছাঁটাই করা জায়েয।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
خالفوا المشركين أحفوا الشوارب، وأوفوا اللحى -صحيح مسلم، رقم: 259؛ ط. دار الكتب العلميه بيروت
“তোমরা মুশরিকদের বিপরীত কর। গোঁফ সম্পূর্ণ কর্তন কর, দাড়ি লম্বা রাখ।” -সহীহ মুসলিম: ২৫৯
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত অপর হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى -صحيح مسلم، رقم: 259؛ ط. دار الكتب العلميه بيروت
“গোঁফ সম্পূর্ণ কর্তন কর, দাড়ি লম্বা রাখ।” -সহীহ মুসলিম: ২৫৯
وَكانَ ابنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ علَى لِحْيَتِهِ، فَما فَضَلَ أَخَذَهُ – صحيح بخاري, رقم: 5892; ط. دار ابن كثير بيروت
“ইবনে উমর রা. তাঁর দাড়ি ধরে এক মুষ্ঠির বর্ধিতাংশ কেটে ফেলতেন।” -সহীহ বুখারী: ৫৮৯২
প্রথমেই উপরোক্ত হাদিসগুলো পেশ করার উদ্দেশ্য হল, আমরা যেন হাদিসগুলোকে আলোচ্য বিষয়ে মানদন্ড ও মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। খিয়াল করে দেখবেন, বর্তমান আমাদের সমাজে যারা দাড়ি রাখেন তাদের মাঝে তিন রকমের মানুষ নজরে পড়ে।
প্রথমত: যারা দাড়িকে চতুর্দিকে কাটছাঁট করে সামান্য পরিমাণ খোঁচাখোঁচা করে রাখেন, যা দেখলে দাড়ির মতো মনে হলেও এর বৈধতার পক্ষে কোন দলীল নেই। মাওলানা মাওদুদী রা.-এর লিখিত কিতাব রাসায়েল ও মাসায়েল (শতাব্দীকাল প্রকাশনী কর্তৃক অনুবাদকৃত) এর ১ খন্ডের ১৮৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, দাড়ি রাখা রাসুলের অভ্যস ছিল আর সেই অভ্যসকেই সুন্নাতের মর্যাদা প্রদান করা ঠিক হয়নি।
মাওলানা মাওদুদী রা. আসলে এখানে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছেন। আল্লাহ তার ভুলগুলো মাফ করুন। উম্মহের নির্ভরযোগ্য সকল ইমাম এই বিষয়ে একমত যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব। এই বিষয়ে মাওলানা মাওদুদী রা. সমস্ত ইমামদের ফাতাওয়া পরিত্যাগ করে নিজস্ব ভুল ফাতাওয়া প্রচার করেছেন। আমার মনে হয় কাটছাঁট ও খোঁচাখোঁচা দাড়ির প্রচলনটা এই ভুল ফাতাওয়া থেকেই শুরু হয়েছে, বিশেষ করে জামাতের কর্মী ভাইদের মাঝে। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দিন।
দ্বিতীয়ত: যারা দাড়ির কোন অংশই কাটছাঁট করা জায়েয মনে করেন না। তারা বলেন, যেহেতু রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘…তোমরা দাড়ি লম্বা কর’ এ নির্দেশের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, দাড়ি কাটছাঁট করার কোন সুযোগ নেই। আর এতে দাড়ি যতই লম্বা হবার হোক, যতই অগোছালো দেখা যাবার যাক।
যদিও ইমাম বুখারী রা. সহীহ সনদে ইবনে ওমর কর্তৃক দাড়ির এক মুষ্টির বর্ধিতাংশ কেটে ফেলার আলোচ্য হাদীসটি পেশ করেছেন, তারপরেও প্রচলিত আহলে হাদিস বন্ধুদের একটা গ্রুপ এই মহান সাহাবির আমল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘দাড়ি লম্বা কর’ হাদিসগুলোর বিপরিত গণ্য করেন। আমাদের মাদখালী বন্ধুদের এই বুঝটা সহীহ নয়। কারণ সাহাবায়ে কিরামের আমল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বাস্তব নমুনা ও ব্যাখ্যাকারী হিসেবে করা হয়; বিপরিত বলে বিবেচিত হয়না। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দিন।
তৃতীয়ত: যারা বলেন যে, দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয। দাড়ি এক মুষ্টির কম রাখা বা একেবারে মুণ্ডিয়ে ফেলা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম এবং কবীরা গুনাহ। এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এর অভিমত। তারা রাসুল সা. ও সাহাবাদের আমলের মাঝে বৈপরীত্য খুজে পাননা, সাহাবাদের আমলকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের ব্যাখ্যাকারী হিসেবে গণ্য করেন।