প্রবন্ধ

গাযওয়াতুল হিন্দ : প্রতিশ্রুত যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী

প্রকাশকাল: 18/05/2025

গাযওয়াতুল হিন্দ : প্রতিশ্রুত যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী

আলোচনার শুরুতেই হযরত সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত একটা হাদীস পেশ করছি, যা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রহিমাহুল্লাহ (১৬৪-২৪১ হি.) সহীহ সনদে তার মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বাল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ، وَأَبُو بَكْرٍ بْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الْوُصَابِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ

قال امام العصر انوار شاه الكشميري في التصريح بما تواتر في نزول المسيح رقم: 140 هذا الحديث صحيح علي شرط النسائي وقَالَ الألباني في السلسلة الصحيحة رقم: 1934 بَعْدَ ذِكْرِ إِسْنَادِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ وَ النَّسَائِيِّ (الآتِي ذِكْرُهُ): وَ هَذَا إِسْنَادٌ جَيِّدٌ، ثُمَّ ذَكَرَ إِسْنَادَ الْبُخَارِيِّ فِي التَّارِيْخُ الْكَبِيْرُ وَقَالَ: وَ هَذَا إِسْنَادٌ قَوِيُّ ، فَصَحَّ الحْدِيْثُ وَ الْحَمْدُ لِلَّه .اهـ

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম হযরত সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে দুটি দলকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। একটি দল, যারা হিন্দুস্তানের যুদ্ধে শরিক হবে। আর দ্বিতীয় দল, যারা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম-এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করবে।” মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বাল: ২২৩৯৬

উল্লেখিত হাদীসে উম্মতের দুটি দলের কথা বলা হয়েছে, যাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির ফায়সালা প্রদান করা হয়েছে। দু’দলের একদল হল, হযরত ঈসা আ.-এর বাহিনী, যারা শেষ যামানায় তার সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করবে। কারণ ইসা আ.-এর আগমন শেষ যামানায় হবে তা অসংখ্য হাদীস থেকে প্রমাণিত, সমষ্টিগতভাবে মুতাওয়াতির পর্যায়ের।

দু’দলের অপরদল হল, গাযওয়াতুল হিন্দের বাহিনী, যারা হিন্দুস্তানে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করবে। গাযওয়াতুল হিন্দ দ্বারা কোন সময়কার যুদ্ধ উদ্দেশ্য? তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত থাকলেও হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ.-এর উস্তায, বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত আরতাত ইবনুল মুনযির রহ. এর বর্ণনা থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে, সেই হিন্দুস্তানের যুদ্ধটা শেষ যামানায় সংঘটিত হবে।

মহান তাবেয়ী হযরত আরতাত ইবনুল মুনযির রহ. এর বর্ণনাটি নুআইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃত্যু ২২৮ হি.) কিতাবুল ফিতান গ্রন্থে সহীহ সনদে উল্লেখ করেন-

حَدَّثَنَا الْوَلِيْدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ جَرَّاْحٍ عَنْ أَرْطَاْةَ قَالَ: عَلَى يَدَيْ ذَلِكَ الْخَلِيْفَةِ الْيَمَانِيِّ الَّذِيْ تُفْتَحُ الْقُسْطَنْطِيْنِيَّةُ وَرُوْمِيَّةُ عَلَى يَدَيْهِ، يَخْرُجُ الدَّجَّالُ وَ فِيْ زَمَانِهِ يَنْزِلُ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى يَدَيْهِ تَكُوْنُ غَزْوَةُ الْهِنْدِ، وَهُوَ مِنْ بَنِيْ هَاْشِمٍ، غَزْوَةُ الْهِنْدِ الَّتِي قَالَ فِيْهَا أَبُوْ هُرَيْرَةَ. قَالَ الْوَلِيدُ: قَالَ جَرَّاحٌ…قُلْتُ: إِسْنَاْدُهُ إلى أَرْطَاْةَ صَحِيْحٌ

“হযরত আরতাত ইবনুল মুনযির রহ.বলেন, ইয়ামানী খলিফার নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) ও রোম বিজয় হবে। তাঁর সময়েই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। তাঁর যুগেই ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই হিন্দুস্তানের যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তিনি হবেন হাশেমী বংশের লোক। আবু হুরায়রাহ রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু হিন্দের এই যুদ্ধ সম্পর্কেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।” -কিতাবুল ফিতান: ১২৩৮

আরতাত ইবনুল মুনযির রহ. এর হাদীসকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেয় তাবিযী হযরত কা’আব আহবার রহ. এর এ-সংক্রান্ত অপর একটি হাদীস। হাদীসটি নুআইম বিন হাম্মাদ কিতাবুল ফিতান গ্রন্থে উল্লেখ করেন-

يَبْعَثُ مَلِكٌ فِيْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ جَيْشًا إِلَى الْهِنْدِ فَيَفْتَحُهَا، فَيَطَئُوْا أَرْضَ الْهِنْدِ، وَيَأْخُذُوْا كُنُوْزَهَا، فَيُصَيِّرُهُ ذَلِكَ الْمَلِكُ حِلْيَةً لِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَيُقَدِّمُ عَلَيْهِ ذَلِكَ الْجَيْشُ بِمُلُوْكِ الْهِنْدِ مُغَلَّلِيْنَ، وَيُفْتَحُ لَهُ مَابَيْنَ الْمَشْرِقِ وِالْمَغْرِبِ، وَيَكُوْنُ مَقَامُهُمْ فِيْ الْهِنْدِ إِلَى خُرُوْجِ الدَّجَّالِ

“বাইতুল মাকদিসের একজন বাদশাহ হিন্দুস্তানের দিকে একটি বাহিনী পাঠাবেন। সেই বাহিনী হিন্দুস্তান জয় করে তা পদানত করবে। তারা সেখানকার গুপ্ত ধন-ভাণ্ডার করায়ত্ব করবে। তারপর বাদশাহ এসব ধনদৌলত বাইতুল মাকদিসের সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যবহার করবেন। বাহিনীটি হিন্দুস্তানের রাজাদের শিকল দিয়ে বেঁধে বন্দী করে তাঁর নিকট উপস্থিত করবে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সকল এলাকায় তিনি জয়লাভ করবেন। দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত তাঁরা হিন্দুস্তানেই অবস্থান করবেন।” -কিতাবুল ফিতান: ১২৩৫

গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্তানের যুদ্ধ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক প্রতিশ্রুত এক যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী। এ যুদ্ধ জেরুজালেম থেকে ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। ইমাম মাহদীর সৈন্যদল হিন্দুস্তান জয় করে তা পদানত করবে। এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হবে এবং মুসলিম সৈন্যদলটি হিন্দুস্তানের রাজাদের শিকল দিয়ে বেঁধে বন্দী করে জেরুজালেমে ইমাম মাহদীর নিকট উপস্থিত করবেন। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদগণ হিন্দুস্তান থেকে শামে যাবেন। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণা করেছেন। এ যুদ্ধের শহীদগণ হবেন শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত।

Scroll to Top