আরাফার দিন দ্বীন-ইসলামের পূর্ণতা পাবার দিন
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, একজন ইয়াহূদী তাকে বলল, আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পড়েন, তা যদি আমাদের ইয়াহুদীদের জন্য নাযিল হত, তাহলে নাযিলের দিনকে আমরা ঈদের দিন হিসেবে পালন করতাম। তিনি বললেন, কোন আয়াত? সে বলল, ‘‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম’’ -সুরা মায়িদা: ৩
قال عمر : قد عرفنا ذلك اليوم والمكان الذي نزلت فيه على النبي صلى الله عليه وسلم وهو قائم بعرفة يوم الجمعة
ওমর রাযি.বললেন, আয়াতটি যে দিনে, যে স্থানে রাসুল সা. -এর উপর নাযিল হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমার দিন। – সহীহ বুখারী: ৪৫
আরাফার দিন সম্পর্কে মহান আল্লাহ কসম করেছেন
আর মহান আল্লাহ কেবল গুরুত্বপুর্ণ বিষয়েই কসম করে থাকেন। সুরা বুরুজে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَٱلسَّمَآء. ذَات. ٱلۡبُرُوج. وَٱلۡيَوۡم. ٱلۡمَوۡعُود. وَشَاهِد. وَمَشۡهُود· قتل اصحاب الاخدود
কসম গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশের। কসম সেদিনের যার ওয়াদা করা হয়েছে। কসম সেই দিনের যা উপস্থিত হয় এবং যাকে উপস্থিত করা হয়। অবশ্যয় ধ্বংস হয়েছে গর্ত ওয়ালারা। -সুরা বুরুজ: ১-৪
’কসম সেই দিনের যা উপস্থিত হয় এবং যাকে উপস্থিত করা হয়’ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’যা উপস্থিত হয়’ মানে হল আরাফার দিন, আর ’যাকে উপস্থিত করা হয়’ মানে হল জুমুআর দিন। -সুনানে তিরমিযি: ৩৩৩৯
আরাফার দিনের রোযার মাধ্যমে দুই বছরের গুনাহ মাফ হয়
আমাদের প্রিয় হাবিব রাসুল সা. বলেন,
صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده
আর আরাফার দিবসের রোযা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, মহান আল্লাহ এর কারণে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। -সহীহ মুসলিম: ২৬১৭