১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আমার দ্বীন

ইসলামই পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা

সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক

উস্তাযুল হাদিস শায়খ

মাসুম বিন আব্দুল আযিয

হাফিযাহুল্লাহ

প্রবন্ধ

ইসলাম ও জাহিলিয়াতের দ্বন্দ্ব চিরন্তন

প্রকাশকাল: 06/05/2025

ইসলাম ও জাহিলিয়াতের দ্বন্দ্ব চিরন্তন

ইসলাম ও জাহিলিয়াতের মাঝে রয়েছে প্রচন্ড দ্বান্দ্বিকতা। শতভাগ এই পরস্পরবিরোধী দ্বন্দ্বকে কস্মিনকালেও সমাধানের করা যাবেনা। যেখানে ইসলাম থাকবে, সেখানে জাহিলিয়াত থাকবে না। আর যেখানে জাহিলিয়াত থাকবে, সেখানে ইসলাম থাকবে না। যেহেতু ইসলামের ব্যাপ্তি সব সময়ে ও সব জায়গায় বিস্তৃত, সুতরাং জীবনের সবক্ষেত্রে সর্বদাই জাহিলিয়াতের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রতিষ্ঠিত। জাহিলিয়াতের রয়েছে অনেক শাখা-প্রশাখা। কুফর, শিরক, পাপাচার সবই জাহিলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত।

মহান ‍আল্লাহ এই পৃথিবীতে যত নবী রাসুল পাঠিয়েছেন সবার মৌলিক দায়িত্ব একটাই ছিল। আর তা হলো মানুষকে জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে বের করে ইসলামের আলোয় নিয়ে আসা। এ কারণেই ইসলাম সর্বপ্রথম জাহিলিয়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায়, এরপর ব্যক্তির ইমানের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে। তাওহিদের কালিমার দিকে লক্ষ করলেই এই বাস্তবতা পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

তাওহিদের কালিমার ভিত্তিতেই মানুষ কাফির ও মুমিন দু’ভাগে বিভক্ত, কেউ সৌভাগ্যবান জান্নাতি, কেউ হতভাগা জাহান্নামি। এই কালিমাই ইসলামে প্রবেশের মাধ্যম ও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এই মহান কালিমা জাহিলিয়াতের বাস্তবায়নকারী ও প্রতিরক্ষাকারী তাগুতদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং আল্লাহর উলুহিয়াতের মর্মবাণী প্রকাশ করতে এসেছে। আল্লহ তাআলা বলেন-

فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا

“অতএব, যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়”। -সূরা বাকারা: ২৫৬

ইসলামের আলোয় যা আলোকিত নয় সবই জাহিলিয়াত। যে জীবনব্যবস্থা আল কুরআনের রশ্মিতে চাকচকা নয়, সেটাই জাহিলি জীবনব্যবস্থা। যে রাষ্ট্র মহান রবের দেওয়া সংবিধান কুরআন দ্বারা পরিচালিত নয়, সেটাই জাহিলি রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে পরিবারে দ্বীনের আলোয় আলোকিত নয়, সেটাই জাহিলি পরিবার। যে ব্যক্তি আল্লহর নুরে নুরান্বিত নয়, সেইতো জাহালতের অন্ধকারে নিমজ্জিত।

আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ সা. ব্যক্তি, পরিবার, ‍সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে জাহালাতকে সমূলে উৎপাটন করেছেন এবং ইসলামের মহান প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। আজ রাসুলের উম্মহ হিসাবে আমাদের ওপরও সেই দায়িত্ব বর্তায় যে, তার মতো করে দাওয়াহ, হিজরাহ, নুসরাহ ও জিহাদের মাধ্যমে এই পৃথিবী থেকে জাহালাতের অন্ধকার বিদূরিত করে, তা ইসলামের আলোয় আলোকিত করা। আল্লহুল মুসতাআন।

Scroll to Top