আলোচ্য সমাজপ্রথাটির উদ্দেশ্য ভালো হলেও এতে ইসলামী শারিয়ার দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি রয়েছে। আমাদের সাধারণ দৃষ্টিতে একটি বিষয়কে ভালো উদ্যোগ মনে হলেও শারীয়ার দৃষ্টিতে তা শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না সেটা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কুরবানীর গোশত সংগ্রহ ও বণ্টন প্রচলিত সমাজপ্রথাটিও আমরা শারীয়ার দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
আলোচ্য সমাজপ্রথাতে ইসলামী শারিয়ার মৌলিক কিছু আপত্তি
প্রথম আপত্তি: ইসলামী শারিয়া হারাম খাদ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে। আর আমাদের এটাও জানা আছে যে, সমাজের সব মানুষ এক রকম নই। আমাদের সমাজে সুদখোর, ব্যাংকার, ঘুষখোর, জুয়াড়িদের মতো নানা শ্রেণীর নানা পেশার মানুষের বসবাস করে। আবার নেককার মানুষরাও এই সমাজে আছেন। এ ধরনের সমাজপ্রথার মাধ্যমে হারাম পেশাদার ব্যক্তিদের খাদ্য সমাজের হালাল ভক্ষণকারীদের ঘরেও পৌঁছে যাচ্ছে।
আবু হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-
ثم ذكر الرجلَ يُطيل السفر. يعني: ذكر النبيُّ الرجلَ يُطيل السفر. أشعث، أغبر، يمد يديه إلى السماء: يا رب، يا رب، ومطعمه حرام، وملبسه حرام، ومشربه حرام، وغُذي بالحرام، فأنَّى يُستجاب لذلك – رواه مسلم – رقم الحديث: 1015 – ط. دار الكتب العلمية
‘‘অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত, মাথার চুল যার এলোমেলো ধূলেধূসরিত, সে নিজ উভয় হাত আকাশের দিকে সম্প্রসারিত করে বলছে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম তথা তার পুরো জীবনোপকরণই হারামের উপর নির্ভরশীল। অতএব তার দোআ কীভাবে কবুল হতে পারে?’’ -মুসলিম: ১০১৫
দ্বিতীয় আপত্তি: ইসলামী শারিয়ার নির্দেশ হল, মান্নত এবং অসিয়তের কুরবানী হলে কুরবানীদাতা এবং ধনী ব্যক্তিদের জন্য উক্ত কুরবানীর গোশত নেওয়া জায়েয নয়, বরং তা শুধুমাত্র ফকির-মিসকিনদের বণ্টন করে দিতে হবে। অথচ এই ক্ষেত্রে কুরবানীর গোশতের মানতের অংশগুলোও বণ্টনের সময় ধনী ও গরীব সবাইকে প্রদান করা হয়।
আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়াতে উল্লেখ আছে-
إن وجبت بالنذر فليس لصاحبها أن يأكل منها شيئا، ولا أن يطعم غيره من الأغنياء سواء كان الناذر غنيا أو فقيرا. – الفتاوي الهندية – رقم الصفحة: 300 من الجزء الخامس – ط. زكريا
যদি কুরবানীরটি মানতের জন্য হয়ে থাকে তাহলে এর মালিক কুরবানীর গোশত থেকে কিছু খেতে পারবেন না এবং অন্য কোনো ধনী মানুষকেও খাওয়াতে পারবেন না। এই ক্ষেত্রে মানতকারী ধনী বা দরিদ্র হওয়াতে কোনো পার্থক্য নেই। -আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়া: ৫/৩০০
তৃতীয় আপত্তি: ইসলামী শারিয়া আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর গোশত দিতে উৎসাহ প্রদান করেছে, কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর আবশ্যক করেনি। মহান রব যে বিষয়টাকে অপরিহার্য করেননি সেটাকে সামাজিক রীতি পালনের নামে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি ঘৃণিত কাজ। আবার সেটা যদি অপরের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত নেয়ার মত ঘটনা হয়, তাহলে তো আরো ভয়ংকর বিষয়। অনেকক্ষেত্রে কুরবানীর গোশত সংগ্রহটা অপরের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত নেয়ার মতই হয়ে থাকে।
রাসুল সা. ইরশাদ করেন-
وَعَن أبي حرَّة الرقاشِي عَن عَمه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم أَلا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ – مسند الامام احمد ابن حنبل – رقم الصفحة: 299 من من الجزء الرابع و الثلاثون – رقم الحديث: 20695 – ط. مؤسسة الرسالة
আবু হুররাহ আর রাক্কাশী রহ. তার চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান! কারো ওপর যুলুম করবে না। সাবধান! কারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত কারো জন্য হালাল নয়। -মুসনাদে আহমাদ: ২০৬৯৫