প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন নং ১২:

দাস-দাসীর বিধান কি তাহলে রহিত হয়ে গেছে?

উত্তর প্রদান করেছেন:

উস্তাযুল হাদিস শায়খ মাসুম বিন আব্দুল আযিয হাফিযাহুল্লাহ

প্রকাশকাল: 13/03/2025

দাস-দাসীর বিধান কি তাহলে রহিত হয়ে গেছে?

উত্তর

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় শরীয়তের যেসব বিধান রহিত হয়নি, তা রহিত করার এখতিয়ার কিয়ামত অবধি কারও নেই। জাতিসঙ্ঘের অধীনে পশ্চিমাদের এবং তথাকথিত মুসলিম শাসকদের মধ্যে দাসপ্রথা বিলুপ্তির যে যৌথ চুক্তি হয়েছে, তা শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হ্যাঁ, মুসলিমদের জন্য যেটুকু অবকাশ আছে, তা হল দাস-দাসী গ্রহণ করা যেহেতু শরীয়তে ওয়াজিব নয়; বরং মুবাহ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই তারা বিশেষ কোনো কারণ থাকলে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে এবং মুসলিমদের কোনো কল্যাণ থাকলে কাফেরদের সঙ্গেও সাময়িক সময়ের জন্য দাস-দাসী গ্রহণ না করার চুক্তি করতে পারে।

সুতরাং এখনও যদি মুসলিমরা শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যুদ্ধবন্দী কাফেরদের দাস-দাসী বানাতে চায়, মৌলিকভাবে শরীয়তে তার অবকাশ আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা মুসলিমদের জন্য অধিক ক্ষতিকর বিধায় উলামায়ে কেরাম তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। কারণ বর্তমানে সমগ্র বিশ্বেই যেহেতু মুসলিমরা দুর্বল ও পরাজিত, পক্ষান্তরে কাফেররা শক্তিশালী ও বিজয়ী, এজন্য এই পরিস্থিতিতে মুসলিমরা যদি কাফেরদের দাস-দাসী বানাতে শুরু করে, কাফেররাও মুসলিমদের দাস-দাসী বানাতে শুরু করবে এবং এতে মুসলিমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বলা বাহুল্য, শরীয়তে জায়েয ও মুবাহ যে কাজগুলো; বিশেষ কোনো পরিস্থিতির কারণে মুসলিমদের উপকার অপেক্ষা অধিক ক্ষতির কারণ হওয়ার ফলে, ফুকাহায়ে কেরাম সেগুলো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন, তা মান্য করা মুসলিমদের জন্য জরুরি। কারণ জায়েয বিষয়টি তখন নাজায়েয হয়ে যায়। হ্যাঁ, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আবার তার মূল বিধান ফিরে আসে।

উপরোক্ত ফাতাওয়া প্রদান করেছেন, উম্মাহের তরে নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী মহান আলিমগণ, যারা পুরো বিশ্বের মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন, বিশেষকরে শহীদ শায়খ আব্দুল্লাহ আযযাম রাহিমাহুল্লাহ “ফিলজিহাদ ফিকহুন ওয়া ইজতিহাদ” কিতাবের ১৮৫পৃষ্ঠায় আলোচনা করেছেন।

-সহীহ বুখারী: ২৭৩৫; সহীহ বুখারী: ২৬৪১ ; শারহুস সিয়ারিল কাবীর: ১৭৮৮; শারহুস সিয়ারিল কাবীর: ১/১০২, বাবুল আমান ;

Scroll to Top