প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন নং ১১ :

ইসলামী ব্যংকে মুদারাবা ব্যবসায় শেয়ার নেওয়া কি বৈধ নয়?

উত্তর প্রদান করেছেন:

উস্তাযুল হাদিস শায়খ মাসুম বিন আব্দুল আযিয হাফিযাহুল্লাহ

প্রকাশকাল: 13/03/2025

ইসলামী ব্যংকে মুদারাবা ব্যবসায় শেয়ার নেওয়া কি বৈধ নয়?

উত্তর

আসলে এদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ শরীয়াহ পদ্ধতি অনুসরণ করে না। ফলে ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন থেকে আয়কৃত মুনাফা সন্দেহমুক্ত নয়। অতএব ইসলামী ব্যাংকসহ সকল ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে বেঁচে থাকা জরুরি এবং এটিই দ্বীন ও ঈমানের জন্য নিরাপদ। একজন মুমিনের জীবনে হালাল হারামের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হাদীস শরীফে এসেছে,

إن الحلال بين، وإن الحرام بين، وبينهما مشتبهات لا يعلمهن كثير من الناس، فمن اتقى الشبهات استبرأ لدينه، وعرضه، ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام.

নিশ্চয় হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে। আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে, সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। –সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯, সহীহ বুখারী: ৫২

বিলম্ব না করে ব্যাংকের সাথে মুআমালা গুটিয়ে নেওয়া এবং ব্যাংক থেকে আয়কৃত মুনাফা সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীব মিসকিনদের মাঝে দান করে দেওয়া উচিৎ। মুসলিমদের কোনো জনকল্যাণমূলক কাজেও দান করা যাবে। যদি জিহাদের পথে খরচ করা সম্ভব হয় আরও ভালো। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ (৭২৮ হি.) বলেছেন, এমন অর্থ থেকে মুক্তি লাভের উত্তম পথ হচ্ছে, তা জিহাদের পথে খরচ করা। তিনি বলেন,

ومن أراد التخلص من الحرام والتوبة ولا يمكن رده إلى أصحابه فلينفقه في سبيل الله عن أصحابه فإن ذلك طريق حسنة إلى خلاصه مع ما يحصل له من أجر الجهاد

যে ব্যক্তি হারাম থেকে দায়মুক্ত হয়ে চায় এবং তওবা করতে চায়; অথচ তা মালিকের নিকট পৌঁছানো সম্ভবপর নয়, তাহলে সে যেন তা মালিকের পক্ষ থেকে জিহাদের পথে খরচ করে। এটা দায়মুক্তির উত্তম পথ এবং এতে সে জিহাদে অংশ গ্রহণেরও সাওয়াব পাবে। -মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/৪২১-৪২২; ফাতাওয়া উসমানি: ৩/২৭৬

Scroll to Top