‘কুরবানীর পশুতে শরীক কোন একজনের গোশত খাওয়ার নিয়ত থাকলে অন্যদের কুরবানীও সহীহ হবে না’ মাসআলাটি আসলে এমন নই। বরং মাসআলাটি হল— কুরবানীর পশুতে শরীকদের কোন একজন যদি কুরবানীর জন্য নয়; বরং শুধু গোশতের ভাগ গ্রহণের নিয়তে শরীক হয়, তাহলে সেই পশুতে বাকি আরও যারা কুরবানীর নিয়ত বা উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করেছে তাদের কুরবানীও সহীহ হবে না।
গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানী করা আর শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানী করার মাঝে বিস্তর পার্থক্য আছে—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাসআলা। কুরবানী দাতার নিয়ত ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করলে সাধারণত তিন শ্রেণির কুরবানী দাতা দেখা যায়। নিম্নে আলাদাভাবে সেই তিন শ্রেণির কুরবানী দাতার বিধানসহ আলোচনা করা হচ্ছে।
প্রথমত: যাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব তারা ওয়াজিব যিম্মাদারী আদায়ের নিয়তে কুরবানী দিচ্ছে, পাশাপাশি এ নিয়তও আছে যে, কুরবানী সম্পন্ন হবার পর গোশত খাবে। এই গোশত খাওয়ার নিয়তটা তার নিজের ও অন্য শরীকদের কুরবানী সহীহ হতে বাধা তো দিবেই না; বরং তার একটি মুস্তাহাব আমল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বিতীয়ত: যাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়, তারা চিন্তা করলো- ঈদের দিন তো পরিবারের লোকদের গোশত খাওয়ানো প্রয়োজন। আর কুরবানী দিলে নফল কুরবানীর সাওয়াবও হবে আবার খাওয়ার জন্য গোশতও পাওয়া যাবে। এ উদ্দেশ্যে সে পশু ক্রয় করল বা পশুতে অংশ রাখল, তাহলে এই ব্যক্তির নিজের ও যারা তার সাথে শরীক আছে তাদের সবার কুরবানী সহীহ হয়ে যাবে।
(বর্ণিত দুই সুরতে) কুরবানীর গোশত খাওয়ার নিয়ত থাকা কুরবানী সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। কুরবানীর ঈদের দিন গোশত খাওয়ার নিয়ত থাকা ভালো, হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত।
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ، وَلَا يَأْكُلُ يَوْمَ الْأَضْحَى حَتَّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে কিছু না খেয়ে বের হতেন না। আর কুরবানীর দিন ঈদগাহ থেকে ফিরে আসার পূর্বে কিছু খেতেন না; বরং কুরবানীর গোশত থেকে প্রথম খাবার গ্রহণ করতেন। -মুসনাদে আহমাদ: ২২৯৮৪
তৃতীয়ত: যাদের ওয়াজিব ও নফল কোনো ধরনের কুরবানীর একদমই নিয়ত নেই; বরং তারা শুধু গোশতের ভাগ নেয়ার নিয়তে কুরবানী করল—যেমন বছরের অন্যান্য সময় কয়েকজন মিলে গোশতের জন্য গরু যবাই করে থাকে। এই সুরতে শুধু গোশতের ভাগ গ্রহণ করার নিয়ত কারীদের পশুতে শরীক হওয়ার কারণে অন্যান্য শরীকদের কুরবানীও সহীহ হবে না।
وإن كان شريك الستة نصرانياً أو مريداً اللحم لم يجز عن واحد منهم لأن الإراقةلا تتجزأ.هداية لما.- رد المحتار علي الدر المختار شرح تنوير الابصار – ص. 472 من الجزء التاسع – ط. دار عالم الكتب