মানবতার মুক্তির দূত রাসূলে আরাবি মুহাম্মাদ (ﷺ) আমাদের কলিজার টুকরা। নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুমিন তাদের হৃদয়ে লালন করে থাকে , রাসূলের শানে সামান্যতম বেয়াদবিও কোন প্রকৃত মুসলমান সহ্য করতে পারে না; কিন্তু বিভিন্ন সময় নরকের কীটগুলাে আমাদের প্রাণের স্পন্দনের শানে বেয়াদবি করে বেড়ায়, তাঁর শানে কুৎসা ছড়ায়। তাদের কুৎসা , অবমাননা ও বেয়াদবিতে তাঁর মাকাম ও মর্যাদার সামান্যতম ক্ষতি তো হবেই না; বরং যুগে যুগে কা’ব ইবনে আশরাফ ও আবু লাহাবের মত আল্লাহর নবীর চির দুশমনরা ধ্বংস হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ধ্বংস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ!
শাতিমে রাসূলের পরিচয়:- যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম– কে গালমন্দ করে বা তাঁকে নিয়ে কটুক্তি করে বা উনার শানে অবমাননাকর বাক্য উচ্চারণ করে অথবা এমন কোন কাজ করে, যার দ্বারা রাসূলের প্রতি অবমাননা প্রকাশ পায়, সেই শাতিমে রাসূল। সেই রাসূলের দুশমন।
শাতিমে রাসূলের বিধান:- সকল উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূল (ﷺ) কে গালাগালকারী বা ব্যঙ্গকারী ব্যক্তি কাফের/মুরতাদ।
যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:-
وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيِقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَّكُمْ يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ آمَنُواْ مِنكُمْ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং (তাঁর সম্পর্কে) বলে, ‘সে তো আপাদমস্তক কান’। বলে দাও, তোমাদের পক্ষে যা মঙ্গলজনক, সে তারই জন্য কান। সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদের কথা বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা (বাহ্যিকভাবে) ঈমান এনেছে, তাদের জন্য সে রহমত (সুলভ আচরণকারী)। যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে। – আত-তাওবাহ্ : ৬১
أَلَمْ يَعْلَمُواْ أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللّهَ وَرَسُولَهُ فَأنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ذٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيم
তারা কি জানে না, কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করলে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, যাতে সে সর্বদা থাকবে? এটা তো চরম লাঞ্ছনা!! -আত-তাওবাহ্ : ৬৩
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে তাইমিয়্যা রহ. বলেন-
এই আয়াত এটা প্রমান করছে যে, রাসূল (ﷺ) কে কষ্ট দেয়া এবং বিরোধিতা করা কুফরী ৷ কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন যেখানে তারা চিরকাল থাকবে ৷ তিনি এ কথা বলেননি যে, এটা তাদের ওই কর্মের ফলাফল ৷ আর এই দুই কথার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে ৷
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল রাহি. বলেন–
যে রাসূল (ﷺ) কে গালি দিলো বা তাঁর সম্মানহানি করলো, তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। চাই সে মুসলিম হোক বা কাফির।
কেননা রাসূল বলেন – مَن سَبَّ نبيًّا فاقتُلوه
যে রাসূল (ﷺ)কে গালি দিলো তাকে তোমরা হত্যা করো।
উপসংহার:- পরিশেষে বলবো, মুসলমানদের প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয় পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কে নিয়ে কেউ ঠাট্টা-বিদ্রুপ করবে আর প্রকৃত মুসলমানরা জেগে উঠবে না তা হতেই পারেনা।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম নবীপ্রেমে আপ্লোত হয়ে কতইনা সুন্দর করে বলেছেন,
- রাসূলের অপমানে যদি না কাঁদে তোর মন
- মুসলিম নয়, মুনাফিক তুই, রাসূলের দুশমন