প্রথমেই জানার চেষ্টা করবো যে, ধর্ম নিরপেক্ষবাদ আসলে কী জিনিস ? তাহলে বিধান জানাও সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে ইংরেজিতে Secularism বলা হয়। Encyclopedia of Britannica তে Secularism-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, Any movement in society directed away from the worldliness to life on earth. অর্থাৎ এটি এমন একটি সামাজিক আন্দোলনের নাম, যা মানুষকে আখিরাতের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে কেবলমাত্র পার্থিব বিষয়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করায়। ড. আলী জারীশা বলেন, العلمانية .هي.فصل الدين عن الدولة রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা হলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ |
এক কথায় বলা যায় যে, মানবজীবনের পারিবারিক, সাংসারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি থেকে ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করা | সেকুলারিজমকে যদিও বাংলা করা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শব্দ দিয়ে কিন্তু মূলত তার বাংলা করা উচিৎ ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতা শব্দ দিয়ে। কারণ সেকুলার ব্যক্তি আসলে নাস্তিকতার কুফরিতে লিপ্ত থাকে, কারণ সে দুনিয়ার ব্যাপারে আল্লাহর কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে।
সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়ার ব্যাপারে দ্বীনের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করবে; সে ঐ ব্যক্তির তুলনায় অধিক নিকৃষ্ট, যে আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করলেও দুনিয়ার উপর দ্বীনের কর্তৃত্বকে স্বীকার করে। সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষবাদী ব্যক্তি সেকুলারিজমে বিশ্বাসের মাধ্যমে মহান আল্লাহর হাজার হাজার বিধানকে অস্বীকার করে। শয়তান আল্লাহর একটা বিধানকে অস্বীকার করার কারণে কাফির হলে, সেকুলার ব্যক্তি হাজারো বিধানকে অস্বীকার করার পরেও কীভাবে মুসলিম থাকতে পারে? সেজন্য সেকুলারিজমে বিশ্বাসী ব্যক্তি দ্বীন-ইসলাম পরিত্যাগ কারী এক জঘন্য মুশরিক ও কাফের।
مجموعة الفتاوي (دار الوفاء) 5/356 : بل تلتزم الإعراض عن معرفة الله وعبادته وذكره ، فلا تذكره قط ولا تعبده ولا تدعوه ولا ترجوه ولا تخافه فيكون جحدك له أعظم من جحد إبليس الذي اعترف به