আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে অনেক মানুষ ঈর্ষা, হিংসা ও শয়তানি প্রভাবে একে অপরকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ব্ল্যাক ম্যাজিক (Black Magic) বা “কালো জাদু” এমন এক বাস্তব বিষয়—যা মানুষকে মানসিক ও আত্মিকভাবে দুর্বল করে ফেলে।
কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে কালো জাদু থেকে হেফাজতের কিছু সুন্দর আমল শিখিয়ে দিয়েছেন, যেগুলো নিয়মিত পড়লে আল্লাহ নিজেই বান্দাকে সুরক্ষা দেন—জাদু, নজর, ও সব অনিষ্ট থেকে।
এখানে কালো জাদু থেকে নিরাপত্তার লাভের কিছু নির্ভরযোগ্য আমল পেশ করা হল।
নিরাপত্তা লাভের প্রথম আমল আয়াতুল কুরসী
অর্থাৎ সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নাম্বার আয়াতটি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ও প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার করে পড়বে।
আয়াতুল কুরসি হলো-
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
নিরাপত্তা লাভের দ্বিতীয় আমল সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে এবং প্রতি নামাজের পর একবার করে পড়বে।
সূরা ইখলাস হলো-
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
বল, তিনি আল্লাহ (যিনি) অদ্বিতীয়, তিনি কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি ও তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
সূরা ফালাক হলো-
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَد
বল, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অমঙ্গল হতে; অমঙ্গল হতে রাত্রির, যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, অমঙ্গল হতে সেসব নারীর যারা গিঁটে ফুঁ দিয়ে জাদু করে এবং অমঙ্গল হতে হিংসুকের যখন সে হিংসা করে।
সূরা নাস হলো-
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
বলো, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি মানুষের রবের কাছে। মানুষের অধিপতির কাছে। মানুষের উপাস্যের কাছে। মন্দ প্রবৃত্তির কুমন্ত্রণা থেকে, যে পিছনে লুকায়। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে। জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
নিরাপত্তা লাভের তৃতীয় আমল
নিম্নে উল্লেখিত দোআটি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বে।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি—যাঁর নামের বরকতে জমিন বা আসমানে কোনো কিছুরই ক্ষতি হয় না; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
নিরাপত্তা লাভের চতুর্থ আমল
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় একশবার করে এই জিকির পাঠ করবে।
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
নিরাপত্তা লাভের পঞ্চম আমল
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দুআ পাঠ করবে।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাগুলোর আশ্রয় চাই, তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে।
নিরাপত্তা লাভের ষষ্ঠ আমল
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার করে এই দুআ পড়বে।
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ، وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
অর্থ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তাঁরই উপর আমি ভরসা করেছি, এবং তিনিই মহা আরশের মালিক।
এই ছয়টি আমল যদি নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর হেফাজত আপনার উপর নাজিল হবে, জাদু, নজর ও সব শয়তানি প্রভাব থেকে আপনি নিরাপদ থাকবেন।
— সহীহ আন নাসায়ী হাদীস: ২২৭২ ; সহীহ বুখারী হাদীস: ৫০১৭ ; সহীহ মুসলিম হাদীস: ২৭০৯ ; সহীহ বুখারী হাদীস: ৩২৯৩ ; সহীহ মুসলিম হাদীস: ২৬৯১ ; সহীহ মুসলিম হাদীস: ২৭০৮ ; সুনান আবু দাউদ হাদীস: ৫০৮১