স্বামী স্ত্রীর সাথে নির্জনবাস বা স্ত্রী সুলভ আচরণ করার পর তালাক প্রধান করলে অথবা স্বামী মৃত্যুবরণ করলে ইদ্দতের মধ্যে (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে) স্ত্রী নিজের শরীরে এবং কাপড়ে সমস্ত প্রকারের সাজসজ্জা বর্জন করবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, সে তার ইদ্দতের মধ্যে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য সুরমা কাজল, মেহেদী, পাউডার, সকল প্রকারের সুগন্ধি, পারফিউম, গয়না, উজ্জ্বল কাপড়-চোপড় ব্যবহার করতে পারে না। এটাকেই ইসলামি শারিয়ার পরিভাষায় ইদ্দত বলা হয়।
ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে উল্লেখ আ্র্রছে-
على المبتوتة والمتوفى عنها زوجها إذا كانت بالغة مسلمة الحداد في عدتها كذا في الكافي، والحداد الاجتناب عن الطيب والدهن والكحل والحناء والخضاب ولبس المطيب والمعصفر والثوب الأحمر وما صبغ بزعفران…آه
সময়ের বিবেচনায় ইদ্দত কয়েক প্রকারে বিভক্ত
১। নারী যদি গর্ভবতী বা অন্তঃসত্বা হন তাহলে তার ইদ্দতের সময় হলো সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় পর্যন্ত। সেই ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) পালন স্বামীর মৃত্যুবরণের কারণে হোক অথবা স্বামীর কাছ থেকে তালাক পাওয়ার কারণে হোক। [সুরা ত্বলাক, আয়াত: ৪]
২। আর যদি তালাকপ্রাপ্তা নারী অ-গর্ভবতী হন এবং হায়েযবতী শ্রেণীর নারী হন তাহলে তার ইদ্দত হলো তালাকের পর পরিপূর্ণ তিন হায়েয। এই আলোচনার আলোকে যদি দুগ্ধপালনকালীন সময়সীমাতে স্বামী তাকে তালাক দেয় এবং দুই বছরের আগে তার হায়েয না হয়; সেক্ষেত্রেও সে নারী তিনবার হায়েয হওয়া পর্যন্ত সময়কাল ইদ্দতে থেকে যাবেন। এতে করে তার ইদ্দতকালীন সময় দুই বছর বা তদুর্ধ্ব সময়কাল হয়ে যাবে। [সূরা বাকারা, আয়াত: ২২৮]
৩। তালাকপ্রাপ্তা নারীর যদি হায়েয না আসে, বার্ধক্যের কারণে বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে, তাহলে এমন নারীর ইদ্দত হলো তিন মাস। [সুরা ত্বলাক, আয়াত: ৪]
৪। বিবাহের পর যদি স্বামী মারা যায় আর স্ত্রী গর্ভবতী বা অন্তঃসত্বা না হন, (গর্ভবতী বা অন্তঃসত্বা হওয়ার মাসআলা ওপরে আলোচিত হয়েছে) তাহলে তার ইদ্দত চার মাস দশ দিন। [সূরা বাকারা, আয়াত: ২৩৪]
৫। যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিবাহের পর সহবাস এবং সহবাসে প্রতিবন্ধকতাহীন নির্জনবাস করার পূর্বে তালাক দেয় তাহলে উক্ত মহিলার উপর ইদ্দত নেই। [সূরা আহযাব, আয়াত: ৪৯]